পাকিস্তানের সবচেয়ে অস্থির প্রদেশ বেলুচিস্তান যেন এখন রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র। স্বাধীনতার দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনার মাঝেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি বড় নিরাপত্তা বহরে ভয়াবহ হামলার দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তাদের দাবি, এই হামলায় অন্তত ৪৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি তৃতীয় বড় ধরনের হামলার ঘটনা। পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার খবর নিশ্চিত করলেও সরকারিভাবে এখনো নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
শুক্রবার বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, কোয়েটা-করাচি হাইওয়ের মাস্তুং জেলার খাদকুচা এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী ১৫টিরও বেশি বাসের একটি কনভয় (সেনাবহর) লক্ষ্য করে বিএলএ-এর ‘ফতেহ স্কোয়াড’ এ হামলা চালায়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৪৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে হতাহতদের উদ্ধারে আসা বাহিনীর সঙ্গেও বিএলএ যোদ্ধাদের তীব্র গোলাগুলি হয়। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
তবে একটি পাকিস্তানি সামরিক সূত্র প্রাথমিকভাবে ৩ জন সেনা নিহত এবং ২৫ জনেরও বেশি আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর এলাকায় যৌথ বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানায় সূত্রটি।
গত দুই সপ্তাহে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক হামলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় ২৭ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত। লাসবোলায় ১১ সেনা নিহত হওয়ার কথা জানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। অন্যদিকে টিটিপির হামলায় ১৮ অপহৃত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা এই প্রদেশ শুধু পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় অঞ্চলই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের বহু বিলিয়ন ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ((BRI))-এর অন্যতম কেন্দ্র গদর গভীর সমুদ্রবন্দর এখানেই অবস্থিত।












